█▒▒▒ ব্রেকিং/Breaking ▒▒▒█

**এনআইডি কার্ড নিয়ে গেলেই টিকা পাবেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

**৭ আগস্ট থেকে ইউনিয়নে টিকা দেয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

১৮ বছরের উর্ধ্বে যেকেউ জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে কেন্দ্র গেলে করোনার টিকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি জানান, তবে বয়ষ্করা অবশ্যই অগ্রাধিকার পাবে।

করোনা মোকাবিলার কৌশল নির্ধারণে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক শেষে মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে ব্রিফিংএ এ সব কথা বলেন তিনি।

এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, টিকা দেয়াতে আমরা বেশি জোর দিচ্ছি। সে কারণে আমরা ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদে টিকার কেন্দ্র স্থাপন করছি। যেখান থেকে ইউনিয়নের সমস্ত লোকজন, আপামর জনসাধারণ যারা টিকা নিতে চায় বা টিকা নিতে হবে, তারা ওখানে এসে টিকা নিতে পারবেন। এই সুবিধাটুকু আমরা এখন করে দিচ্ছি। তারা তাদের আইডি কার্ড নিয়ে আসলে পরেই টিকা নিতে পারবেন। আমরা চাচ্ছি যারা ৫০ ঊর্ধ আছেন মহিলা এবং পুরুষ যারা বেশি সংক্রমিত হচ্ছে তাদের ৭৫ শতাংশ ঢাকার হাসপাতালে আছেন। তারা টিকা নেয়নি প্রায় ৯০ শতাংশ। তাদের মৃত্যুর হার বেশি। সে কারণে আমরা ওইদিকে জোর দিচ্ছি, যারা ৫০ ঊর্ধ আছেন তারা যেন তাড়াতাড়ি ইউনিয়ন পরিষদে আসতে পারেন, এসে টিকা নিতে পারেন। টিকা আরো বেশি যখন হাতে আসবে তখন আমরা আরো অল্প বয়সে যেতে পারব অর্থাৎ ওয়ার্ড পর্যায়ে আমরা চিন্তা ভাবনা রেখেছি। ৭ আগস্ট থেকে দেশের সকল ইউনিয়নে টিকা কেন্দ্র স্থাপন করে প্রত্যন্ত এলাকায় এ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি বলেন, যেখানে টিকা দেয়া হয়েছে সেখানে সংক্রমণ কমে গেছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশেও সেই দৃশ্য আমরা দেখেছি। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা, আমাদের টিকা কার্যক্রম জোরদার করার জন্য। তিনি বয়সের সীমাও কমিয়ে দিয়েছেন। আর রেজিস্ট্রেশন নিয়ে আরেকটি নির্দেশনা দিয়েছেন যে, এনআইডি কার্ড নিয়ে যে যাবেন, তাকেই টিকা দেয়া হবে।

আমাদের সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে। শুধু নিরাপত্তা বাহিনী নয়, শুধু সরকারি কর্মকর্তারা নয়, আমাদের জনপ্রতিনিধি, আমাদের ধর্মীয় নেতা, সমাজের নেতারা- সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে। না হলে এই জায়গা থেকে আমরা সহজেই পরিত্রাণ পাব না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু লকডাউনের মাধ্যমে এই সংক্রমণ আমরা রোধ করতে পারব না। স্বাস্থ্য বিধি মানতে হবে, মাস্ক পরতে হবে সকলকে। যারা ফ্রন্টলাইনে কাজ করছেন তাদের সবসময় অগ্রাধিকার দেয়া হয়। সেনা, নৌ, বিমান, কোস্টগার্ড, বিজিবি, আনসার পুলিশসহ সব বাহিনীর সদস্যদের টিকার আওতায় আনতে হবে। তাদের পরিবার পরিজনসহ সবাইকে টিকার আওতায় আনা হবে। ১৮ বছরের ওপরে যারা, তাদের সবাইকে আমরা টিকার আওতায় আনব। যেখানে যে বাহিনী আছেন, সেখানে তাদের দিয়েই টিকার তদারকি করা হবে।

বিধি নিষেধ শিথিল করার ব্যপারে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ রাখা সম্ভব নয় জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের যে লকডাউন চলছে এটা চলতেই থাকবে। আমাদের যে টার্গেট ৫ তারিখ পর্যন্ত সেই ৫ তারিখ পর্যন্ত লকডাউন চলবে। যদিও আমাদের শিল্পপতিরা আবার অনেকে অনুরোধ করেছিলেন কিন্তু আমরা সেই অনুরোধ বোধয় গ্রহণ করতে পারছি না।৫ আগস্ট পর্যন্তই লকডাউন চলবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, যাদের আইডি কার্ড বা বার্থ রেজিস্ট্রেশন কার্ড কিছু না থাকবে তাদেরও বিশেষ ব্যবস্থায় রেজিস্ট্রেশন করে দিয়ে দেয়া হবে স্পটে। ডিসি, ইউএনও মেম্বার চেয়ারম্যান সবাইকে ক্লিয়ার ইনস্ট্রাকশন দিয়ে দেয়া হয়েছে। আমরা ভিডিও কনফারেন্স করে ইনস্ট্রাকশন দিয়ে দিয়েছি আপনাদের নিজস্ব এলাকাতে সেফটিনেট প্রোগ্রামের মাধ্যমে ওইসব অসহায় লোকজনদের সহযোগিতা দেয়ার জন্য।
এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, ৭ আগস্ট থেকে দেশের সকল ইউনিয়নে টিকা কেন্দ্র স্থাপন করে প্রত্যন্ত এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।

মহামারীর দেড় বছরের মধ্যে দেশ যখন সবচেয়ে বিপর্যয়কর অবস্থায় পড়েছে, লকডাউন দিয়েও যখন সংক্রমণ ও মৃত্যু কমানো যাচ্ছে না, এ পরিস্থিতিতে করণীয় কী ঠিক করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই বৈঠক শুরু হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বিজিবি প্রধানসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

মাঝে ঈদের বিরতি দিয়ে গত ২৩ জুলাই ভোর থেকে সারা দেশে আবারও লকডাউনের কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে। দৈনিক রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু- দুই ক্ষেত্রেই রেকর্ড হয়েছে সোমবার। এক দিনে ১৫ হাজার ১৯২ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্তের পাশাপাশি ২৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ।

পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ১ জুলাই দেশে লকডাউন জারি করা হলেও বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে কোরবানির ঈদের সময় নয় দিন তা শিথিল করা হয়েছিল।

অগাস্ট মাসে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও এখন আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এর আগে সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দেশে ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ চলছে। তারপরও নানা অজুহাতে বাইরে বের হচ্ছেন অনেকেই। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেই আজকের বৈঠক।

এছাড়া, করোনা বিধিনিষেধের মধ্যে শিল্পকারখানা খুললে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।


source:https://www.independent24.com/details/73590/%E0%A6%8F%E0%A6%A8%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A1%E0%A6%BF%20%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A1%E0%A7%87%E0%A6%87%20%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%AC%E0%A7%87%20%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE?