১-১২তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নিয়োগের বিষয়ে সরকার ইতিবাচক উদ্যোগ নিলেও বেশ কিছু বিধিগত ও আইনি জটিলতার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে আছে। বর্তমান পরিস্থিতির মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- মন্ত্রণালয়ের চিঠি ও 'বিধিগত' জটিলতা: শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এনটিআরসিএ-কে ১-১২তম নিবন্ধনধারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে চিঠিতে "বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার" কথা বলায় বিপত্তি বেধেছে। কারণ, বর্তমান
বিধির বাইরে গিয়ে এনটিআরসিএ কোনো বিশেষ বা আলাদা গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারবে না।
- সনদের মেয়াদ ও বয়সসীমার বাধা: বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের বর্তমান বিধি অনুযায়ী প্রার্থীদের বয়স সর্বোচ্চ ৩৫ বছর এবং সনদের মেয়াদ ৩ বছর হতে হবে। এই বিধির কারণে ১-১২তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগ দেওয়া সরাসরি সম্ভব হচ্ছে না।
- চলমান মামলার স্থবিরতা: প্রার্থীদের দায়ের করা রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট পূর্বে কিছু নির্দেশনা দিলেও, আপিল বিভাগ তা বাতিল
করেছে। বর্তমানে সিভিল রিভিউ পিটিশন এবং ৩৫ বছর ঊর্ধ্ব প্রার্থীদের দায়ের করা লিভ টু আপিলের ১৯টি মামলার মডিফিকেশন আবেদনের শুনানি চলমান। এই মামলাগুলো নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগ সুপারিশ করা সম্ভব নয়।
- নিয়োগ প্রক্রিয়া সচল করতে এনটিআরসিএ-এর পদক্ষেপ ও চাওয়া:
- চলমান ১৯টি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি।
- এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত বয়স (৩৫ বছর) এবং সনদের মেয়াদের (৩ বছর) বিষয়ে আইন ও বিচার বিভাগ এবং সলিসিটর অনুবিভাগের
সুস্পষ্ট মতামত।
- উপরোক্ত মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক এমপিও নীতিমালা সংশোধন করে এনটিআরসিএ বরাবর সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান।
সারসংক্ষেপ: ১-১২তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা থাকলেও, চলমান মামলা নিষ্পত্তি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক এমপিও নীতিমালায় বয়স ও সনদের মেয়াদের শর্ত শিথিল করে সুস্পষ্ট নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা এনটিআরসিএ-এর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।