কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। অন্যের মাধ্যমে (প্রক্সি) লিখিত পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পর, মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) এসে ধরা পড়েছেন ৯ জন প্রার্থী। জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মৌখিক পরীক্ষার সময় এই অনিয়ম উদ্ঘাটিত হয়।
বুধবার মৌখিক পরীক্ষা চলাকালীন উপস্থিত ভাইভা বোর্ডের সদস্যদের কয়েকজন প্রার্থীর আচরণে সন্দেহ হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ওই প্রার্থীদের হাতের লেখার সঙ্গে লিখিত পরীক্ষার খাতার হাতের লেখা মিলিয়ে দেখা হয়, যেখানে ব্যাপক অমিল ধরা পড়ে।
সন্দেহ আরও ঘনীভূত হলে তাদের ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে প্রার্থীদের বক্তব্যে অসংলগ্নতা ধরা পড়ে এবং তারা স্বীকার করতে বাধ্য হন যে, লিখিত পরীক্ষায় তারা নিজেরা অংশ নেননি; প্রক্সি বা অন্য ব্যক্তিকে দিয়ে পরীক্ষা দিয়ে তারা উত্তীর্ণ হয়েছেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও নিয়োগ নির্বাচনী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান জানান, রাজস্ব প্রশাসনের অধীনে ২০তম গ্রেডের বিভিন্ন শূন্য পদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে এই প্রক্রিয়া চলছিল।
ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সূফি সাজ্জাদ আল ফোজায়েল, রাহুল ঘোষ পলাশ, আমিন অর রশিদ, মশিউর রহমান ও রিয়াদ হোসেনের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত ৯ জনকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন:
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান বলেন, "লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া আমরা কঠোরভাবে অনুসরণ করছি। পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যাচাই-বাছাই আরও জোরদার করা হবে।"
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।