বরাবরই শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সিলেবাস বা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) যে আচরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা লাখো বেকার চাকরিপ্রার্থীর প্রতি এক চরম উপহাস। একটি সরকারি ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে এনটিআরসিএ-এর কার্যক্রম নিয়ে আজ সাধারণ প্রার্থীদের মনে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি (সিলেবাস বা নিয়োগ) সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ হওয়ার কথা। কিন্তু অত্যন্ত বিস্ময়কর ও হতাশাজনক বিষয় হলো, এনটিআরসিএ-এর ক্ষেত্রে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ওয়েবসাইটে আসার ১-২ দিন আগেই রহস্যজনকভাবে একটি নির্দিষ্ট পত্রিকার হাতে পৌঁছে যায়। অফিসিয়াল ঘোষণার আগে নির্দিষ্ট একটি সংবাদমাধ্যমের কাছে কীভাবে এই তথ্যগুলো হস্তান্তর করা হয়, তা নিয়ে গভীর ধোঁয়াশা রয়েছে। সাধারণ প্রার্থীদের মনে আজ এই প্রশ্ন জাগা সম্পূর্ণ যৌক্তিক—একটি মাত্র পত্রিকাকে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান করার জন্য এনটিআরসিএ কেন এই অনৈতিক সুবিধা প্রদান করছে এবং এর নেপথ্যে কী ধরনের স্বার্থ বা লেনদেন জড়িত?
পত্রিকাগুলোতে অনেক সময় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে খণ্ডিত বা অসম্পূর্ণ নিউজ প্রকাশ করা হয়। এরপর প্রার্থীদের বাধ্য করা হয় বিস্তারিত জানতে ওই নির্দিষ্ট পত্রিকাটি খুঁজে বের করতে। এটি সরাসরি দেশের শিক্ষিত তরুণ সমাজকে জিম্মি করে ব্যবসা করার এক ঘৃণ্য কৌশল। চাকরিপ্রার্থীদের আবেগকে পুঁজি করে এই ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং প্রতিনিয়ত তাদের সাথে এই প্রহসন কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। খবর প্রকাশে অনীহা থাকলে তা না দেওয়াই শ্রেয়, কিন্তু অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে প্রার্থীদের হয়রানি করার অধিকার কারও নেই।
এনটিআরসিএ একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান; এটি কোনো নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমের আজ্ঞাবহ বা ব্যবসায়িক সহযোগী নয়। তাদের প্রতিটি কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকতে হবে। যেকোনো বিজ্ঞপ্তি বা সিলেবাস প্রকাশ করতে চাইলে তা পূর্ণাঙ্গরূপে সর্বপ্রথম নিজেদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। খণ্ডিত নিউজ দিয়ে প্রার্থীদের হয়রানি করার এই অপেশাদার ও অনৈতিক প্রথার অবিলম্বে অবসান চাই। বেকারদের আবেগ নিয়ে এই তামাশা এবার বন্ধ হোক।