বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) ১ম থেকে ১২তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছে।

সাম্প্রতিক অগ্রগতিঃ

  • ফাইল উপস্থাপন: সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি ফাইল তোলা হয়েছে (ডি-নথি)।
  • বর্তমান অবস্থা: ফাইলটি ইতোমধ্যে উপসচিব ও যুগ্মসচিবের পর্যায় অতিক্রম করেছে। এখন বেসরকারি মাধ্যমিক শাখার অতিরিক্ত সচিব এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব এ বিষয়ে তাদের মতামত দেবেন।
  • চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতামতের পর কোন প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়া যায়, তা নির্ধারণ করা হবে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রধান বাধাসমূহঃ 

  • আইনি জটিলতা: ১-১২তম ব্যাচের প্রার্থীদের নিয়োগের দাবিতে ১৩২৪/২০১৭ নম্বর রিট পিটিশনসহ মোট ১৬৬টি রিট মামলা চলমান। বর্তমানে সিভিল রিভিউ পিটিশন এবং সিভিল আপিলের মডিফিকেশনের শুনানি চলছে। মামলা চলমান থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা কঠিন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
  • বয়স ও সনদের মেয়াদ: এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর এবং সনদের মেয়াদ ৩ বছর নির্ধারণ করা আছে, যা অনেক প্রার্থীর ক্ষেত্রেই পার হয়ে গেছে।

অতীত প্রেক্ষাপট ও সনদের মেয়াদের পরিবর্তনঃ 

  • ২০০৫ সালের আইন: এই আইন অনুযায়ী এনটিআরসিএ শুধু সনদ প্রদান করত। এটি চাকরির কোনো নিশ্চয়তা দিত না; নিয়োগের দায়িত্ব ছিল ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির ওপর।
  • সনদের মেয়াদের ওঠানামা: * ২০০৬: কোনো মেয়াদ উল্লেখ ছিল না।
    • ২০১২: মেয়াদ ৫ বছর নির্ধারণ করা হয়।
    • ২০১৩: মেয়াদ পুনরায় তুলে দেওয়া হয়।
    • ২০১৫: সর্বশেষ সংশোধন অনুযায়ী মেয়াদ ৩ বছর নির্ধারণ করা হয়।
  • নিয়োগ বঞ্চনা: ২০১৫ সালে এনটিআরসিএ সরাসরি নিয়োগ সুপারিশের দায়িত্ব পায়। এরপর ১ম থেকে ৪র্থ গণবিজ্ঞপ্তিতে ১-১২তম ব্যাচের প্রার্থীরা আবেদনের সুযোগ পেলেও শূন্যপদের অভাব এবং মেধাতালিকায় পিছিয়ে থাকার কারণে অনেকেই নিয়োগ পাননি।

জট খুলতে এনটিআরসিএ-এর চাওয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপঃ 

নিবন্ধনধারীদের বয়স ৩৫ বছর এবং সনদের মেয়াদ ৩ বছর অতিক্রান্ত হওয়ায় গত মার্চ মাসে এনটিআরসিএ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সারসংক্ষেপ পাঠায়। জটিলতা নিরসনে তারা নিচের বিষয়গুলো উল্লেখ করেছে:

১. মামলা নিষ্পত্তি: সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিলের মোট ১৯টি মডিফিকেশন মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি প্রয়োজন। 

২. আইনি মতামত: ৩৫ বছর বয়সসীমা এবং সনদের ৩ বছর মেয়াদের বিষয়ে আইন ও বিচার বিভাগ এবং সলিসিটর অনুবিভাগের সুনির্দিষ্ট মতামত প্রয়োজন। 

৩. নীতিমালা সংশোধন: ওই মতামতের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালা সংশোধনপূর্বক এনটিআরসিএ বরাবর সুস্পষ্ট নির্দেশনা জারি করতে হবে।

১ম -১২তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের নিয়োগ: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট