আমাদের ১০ বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণের অভিজ্ঞতা আপনাদের সহযোগিতায় ব্যবহার করার জন্য আলোচনা শুরু করছি। আশা করি আপনাদের অনেক বিষয়েই নতুন কিছু অভিজ্ঞতা হবে। কোনো প্রশ্ন থাকলে সম্পূর্ণ ফ্রিতে প্রশ্ন-উত্তর সেমিনারে রেজিস্ট্রেশন করবেন। আমাদের 'Jobs Exam Alert'-এর প্রতিটি চাকরিপ্রার্থী যেন দ্রুত তাদের কাঙ্ক্ষিত চাকরিতে যুক্ত হতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।
আপনি অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেছেন, এদিকে চাকরির বয়সও শেষ হচ্ছে কিন্তু আপনি কোনো চাকরির পরীক্ষায় টিকতে পারছেন না। অথচ অনেকের অনার্স পাস না করতেই বা অনার্স পাস করার পরপরই চাকরি হচ্ছে, কিন্তু আপনার হচ্ছে না কেন? "বেশি পড়লেই চাকরি হবে"—এইটা একটা ভ্রান্ত এবং ভুল ধারণা ছাড়া কিছুই নাই। আমরা কিছু চাকরির প্রার্থীদের উপরে জরিপ করে দেখেছি যারা বেশি পড়াশোনা করছে তাদের থেকে বেশি ভালো রেজাল্ট করছে যারা কৌশলে কিছু ক্যাটাগরি টার্গেট করে পড়াশোনা করছে। তাদের চাকরি দ্রুত হচ্ছে।
চাকরির প্রার্থীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা কোথায়?
১। বই নির্বাচন করাঃ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের চাকরির পরীক্ষার জন্য ১২০০ পেজের ইংরেজি বই, ৮০০ পেজের বাংলা বই, ১০০০ পেজের গণিত বই, ৮০০ পেজের সাধারণ জ্ঞান বই, ৪০০ পেজের বিজ্ঞান ও কম্পিউটার বই। এই বইগুলো পড়লে ১০০% চাকরি হবে কিন্তু যারা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের চাকরি করতে চায় তারা কি কখনও শেষ করতে পারবে? এই বই শেষ করতে করতেই দেখা যাচ্ছে চাকরির বয়স শেষ, জীবনেও কোন চাকরির পরীক্ষায় টিকতে পারে নাই।
২। লাফালাফি বেশি করাঃ চাকরির প্রার্থীদের লাফালাফি বেশি করা একটা কমন সমস্যা। তারা শুরু করবে বিসিএস দিয়ে, তারপরে ব্যাংক, তারপরে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর, এর পরে বয়সের শেষ দিকে গিয়ে একটা অফিস সহায়ক চাকরি হলেও বেঁচে যায়। যেখানেই বেশি পদ সেখানেই দৌড়। কোন ফোকাস নাই।
৩। তারা জানেই না কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়ঃ ৮০% চাকরির পরীক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা তারা জানেই না কীভাবে চাকরির প্রস্তুতি নিতে হয়। তারা যখন যে নিয়োগ আসে তখন কয়েক দিন সেই পদ দেখে দৌড় শুরু করে কয়েক দিন পরে আর পড়াশোনা নাই। এমনকি সমাজসেবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে একদল এমন দৌড়ানি শুরু করছে সমাজসেবার বই ক্রয় না করলে চাকরি হবে না, এর থেকে আরো একধাপ এগিয়ে আছে একদল ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদের বই ক্রয় করায় বিজি। এই ভাবে পদ টার্গেট করে কত পদের প্রস্তুতি সম্ভব? যদি হতো এই একই পদ সকল প্রতিষ্ঠানে আছে।
৪। টাকা ছাড়া চাকরি হয় নাঃ এইটা একটা ভ্রান্ত ধারণা, বাংলাদেশের চাকরির বাজারে দুর্নীতি হয় এইটা অস্বাভাবিক কিছুই না। তবে টাকা ছাড়া চাকরি হয় না এইটা ভ্রান্ত ধারণা ছাড়া কিছুই না। আমার পরিচিত যত চাকরির প্রার্থী ছিল যারা প্রকৃতপক্ষে পড়াশোনা করছে তাদের সবার চাকরি হয়েছে। এমনকি সম্প্রতিও পড়াশোনা করে এমন ৬-৭ জনের চাকরি হয়েছে। হ্যাঁ একটা সমস্যা হতে পারে তার যোগ্যতা অনুযায়ী হয়তো চাকরি হয়নি। কিন্তু পড়াশোনা করছে চাকরি হয়নি এমন কোন চাকরির প্রার্থী নাই।
তাহলে কীভাবে চাকরির প্রস্তুতি নিতে হবে?
এই বিষয়ে আলোচনা শুরুর আগে সম্প্রতি আমার পরিচিত কিছু চাকরির প্রার্থীদের জরিপ নিয়ে আলোচনা করি। আমাদের জব’স পাসওয়ার্ড এবং Jobs Exam Alert এর সাথে জড়িত ছিল বেশিরভাগ চাকরির প্রার্থীদের চাকরি হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে যারা সরকারি চাকরি করতে চায় এবং নিয়মিত পড়াশোনা করছে তারা সবাই সরকারি চাকরিজীবী। তাদের পড়ার কৌশল এবং টার্গেটিংটা ছিল অন্য সকল চাকরির পরীক্ষার্থীদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
যেমন, আমাদের অফিসের কম্পিউটার অপারেটর, তারা সম্পূর্ণ ফোকাস দিচ্ছে কম্পিউটার পদগুলোতে, কারণ এখানে কিছু কৌশলে পড়লেই ৩০টা অধ্যায় শেষ করতে পারলেই সহজে চাকরির ভাইভা পর্যন্ত যাওয়া যায়। আর তারা তো কম্পিউটার নিয়েই কাজ করে ব্যবহারিক পরীক্ষায় আটকানো সম্ভব না। এতে দ্রুত চাকরি পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
আবার কেউ টার্গেট করে সরাসরি MCQ পরীক্ষা দিয়ে, ভাইভা দিয়ে সরাসরি চাকরি, তাদের ক্ষেত্রেও বেশি জটিলতা নাই। তারা একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্নে পড়ছে, সর্বপ্রথম ৭০-৮০% কমন পাওয়ার মতো একটা প্রস্তুতি শেষ করছে। তারপরে যখন বেসিক ক্লিয়ার হচ্ছে ৭০-৮০% যে কোন চাকরির পরীক্ষায় কমন পাচ্ছে তখন তারা অধ্যায় টার্গেট করে যদি প্রয়োজন হয় অতিরিক্ত পড়ার সেইটা দেখছে এবং নিজেদের ভুল খুঁজে বের করে নিয়মিত অনলাইন পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেকে অ্যাক্টিভ রাখছে, এতে আরো ১০%-১৫% অতিরিক্ত উত্তর করার ক্রিয়েটিভিটি তৈরি হচ্ছে। তারা পরীক্ষার হলে গেলে দেখা যাচ্ছে প্রশ্ন পড়লেই উত্তর চলে আসছে, গণিতের ক্ষেত্রেও বার বার করার জন্য উত্তর মুখস্থ হয়ে যাচ্ছে ৮০% উত্তর তারা অল্প সময়ে শেষ করে বাকি আনকমন প্রশ্নকে সময় দিয়ে ভেবে ১০-১৫% অতিরিক্ত মার্ক তুলতে পারছে। ফলে তারা দ্রুত ভালো রেজাল্ট করতে পারছে। ৭০-৮০% কাভার না করে যদি আপনি আজ এই বই কাল ঐ বই করে চাকরির প্রস্তুতি নেন চাকরির বয়স শেষ হবে কিন্তু চাকরির পরীক্ষায় টিকতে পারবেন না।
বেশি পড়লেই কি চাকরি হবে?
কখনও না, ধরেন আপনি বিসিএস বা ব্যাংক ছাড়া অন্য চাকরির পরীক্ষা দিবেন। আপনার পড়াশোনা ৮০% কম হয়ে যাবে। আপনি যদি মনে করেন বিসিএস প্রস্তুতি নিলেই আমার সব হয়ে যাবে যা সাধারণ কোচিং বলে থাকে। তাদের কথা মতো পড়া শুরু করলেন। আপনি ৮০% বেশি পড়লেন আরেক জন কৌশলে শুধুমাত্র মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে চাকরির জন্য পড়াশোনা করলো ২০%। তাহলে চাকরির পরীক্ষায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে চাকরির কে ভালো করবে? অনেকে বলতে পারে যার বেশি পড়া আছে সেই ভালো করবে। কিন্তু এইটার উল্টো হয়ে থাকে যে কম পড়েছে সে টার্গেট করে প্রায় সকল তথ্য মনে রাখতে পারে কারণ অতিরিক্ত তথ্য মনে রাখার চাপ নাই। যে বেশি পড়ছে সে ততো বেশি কম প্রশ্ন মনে রাখতে পারবে এবং তৈরি হবে কমন প্রশ্নগুলো ভুলে যাওয়ার একটা প্রবণতা। ফলাফল বেশি পড়ায় বেশি ভুল। তবে যে চাকরির প্রার্থী বিসিএস প্রস্তুতি নিচ্ছে সে যদি বিসিএস পরীক্ষায় টিকতে পারে তখন যে লেভেল হবে, তা আলাদা হবে, কিন্তু এর সংখ্যা খুবই অল্প। আমাদের উচিত কম পড়া, তবে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো আগে শেষ করা। এরপর কঠিন বিষয়গুলোর দিকে নজর দেওয়া। মনে রাখবেন, আমরা এখানে জ্ঞান অর্জনের জন্য পড়ছি না, বরং একটি চাকরি নিশ্চিত করার জন্য পড়ছি। তাই অতিরিক্ত তথ্যের পেছনে না ছুটে, শুরুতে পরীক্ষায় আসার মতো ৭০-৮০% গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করুন। এরপর নিজের প্রস্তুতির ইতিবাচক পরিবর্তন আপনি নিজেই দেখতে পাবেন।
সর্বশেষ আপনাদের বলতে চাই যদি কৌশলে পড়তে পারেন অল্প পড়েও চাকরি হবে এমনকি ৩ মাস পরেও চাকরি হবে। আর এইটা কিছু চাকরির উপরে প্রয়োগ করে দেখেছি। আমরা চাই, 'Jobs Exam Alert'-এর সাথে যুক্ত প্রতিটি চাকরিপ্রার্থী যেন দ্রুত তাদের কাঙ্ক্ষিত চাকরি নিশ্চিত করতে পারে।
সঠিক গাইডলাইন ও কৌশলে পড়লে মাত্র ৩ মাসের প্রস্তুতিতেও চাকরি পাওয়া সম্ভব। আমরা চাই ‘Jobs Exam Alert’-এর প্রার্থীরা দ্রুত সফল হোন। এ লক্ষ্যে আমরা অল্প কিছু চাকরিপ্রার্থীকে নিয়ে একটি এক্সক্লুসিভ প্রশ্ন-উত্তর ও গাইডলাইন সেশনের আয়োজন করতে যাচ্ছি।
???? আলোচনার বিষয়বস্তু:
???? আপনার টার্গেট যদি হয় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ১৪-২০ গ্রেডের চাকরি, তবে আজই আমাদের লাইভ মিটে যুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করুন!
আবেদন লিংকঃ https://forms.gle/fi15F8hvagmM7jLs8
যেহেতু এটি একটি সরাসরি প্রশ্ন-উত্তর পর্ব, তাই একসাথে হয়তো খুব বেশি প্রার্থীর সাথে আলোচনা করা সম্ভব হবে না। তবে আমরা ধাপে ধাপে সবার সাথেই কথা বলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।