সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) শেষ হয়েছে গত ৩ ফেব্রুয়ারি। বর্তমানে সারা দেশের প্রায় ৭০ হাজার চাকরিপ্রার্থী চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে, এখন চলছে নম্বর যাচাই-বাছাই ও কারিগরি কার্যক্রম। এটি সম্পন্ন হওয়ামাত্রই দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হবে। তবে রেকর্ড গতির এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘ডিজিটাল জালিয়াতি’র যে ছায়া পড়েছিল, ভাইভা বোর্ডে তার সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে।
নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা চলাকালীনই ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিলেন অনেক প্রার্থী। মৌখিক পরীক্ষায় সেই অভিযোগের ভয়াবহ সত্যতা মিলেছে। দিনাজপুরে ভাইভা বোর্ডে সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন ১১ জন প্রার্থী।
গত ১ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভাইভা দিতে এলে সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ থেকে জানা যায়:
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে একে একে ১১ জন প্রার্থীই তাদের অপকর্মের কথা স্বীকার করেন। এমনকি এই জালিয়াতি চক্রের সাথে স্থানীয় শিক্ষা অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারী ও শিক্ষকের জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে।
বর্তমানে দেশের ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট চলছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সাথে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।
নিয়োগ পরিসংখ্যান এক নজরে:
দ্রুত ফল প্রকাশের কারণ ব্যাখ্যা করে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বলেন, প্রধান ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে বিশাল শূন্যতার কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন:
“প্রয়োজনের নিরিখে জরুরি ভিত্তিতে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছে, এখানে অধিদপ্তরের আলাদা কোনো অভিসন্ধি নেই।”
এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হচ্ছে অভাবনীয় দ্রুততায়।
তবে এই গতি নিয়ে সন্তুষ্টির পাশাপাশি চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভও রয়েছে। ডিজিটাল জালিয়াতি রোধে ব্যর্থতা, সার্টিফিকেটের নম্বর বাতিল এবং ভাইভায় নতুন ‘পাস-ফেল’ পদ্ধতি প্রবর্তন নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে মেধাবী প্রার্থীরা আশঙ্কা করছেন, জালিয়াতির মাধ্যমে অযোগ্যরা নিয়োগ পেলে শিক্ষার মান আরও নিচে নেমে যাবে।
এখন দেখার বিষয়, জালিয়াতির অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে ডিপিই কতটা স্বচ্ছতার সাথে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করতে পারে।
সূত্রঃ প্রথম আলো