আজকে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রশ্নফাঁসের যে গুঞ্জন ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে আবেগের বশবর্তী না হয়ে বাস্তবসম্মত ও কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই সমস্যার ধরন প্রথাগত "প্রশ্নফাঁস" থেকে কিছুটা ভিন্ন।
সাধারণত "প্রশ্নফাঁস" বলতে আমরা বুঝি পরীক্ষা শুরুর আগের রাতে বা কয়েক ঘণ্টা আগে প্রশ্ন বাইরে চলে আসা। কিন্তু এবারের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে দৃশ্যপটটি ভিন্ন। প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
প্রশ্ন হলো, প্রশাসন কেন এই জালিয়াতি আটকাতে পারল না? এর উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের পরীক্ষা পদ্ধতির বিশালতা ও বর্তমান কাঠামোর মধ্যে।
১. কেন্দ্রের বিশাল সংখ্যা: সারা বাংলাদেশে হাজার হাজার কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এত বিশাল কর্মযজ্ঞে প্রতিটি কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষ শতভাগ নিশ্ছিদ্র রাখা প্রশাসনের একার পক্ষে প্রায় অসম্ভব। ২. অসৎ চক্রের সম্পৃক্ততা: অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বরত কিছু অসাধু শিক্ষক এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানের যোগসাজশেই প্রশ্নপত্রের ছবি বাইরে আসে। যখন রক্ষকই ভক্ষক হয়ে দাঁড়ায়, তখন কেন্দ্রীয় প্রশাসনের পক্ষে তা নিয়ন্ত্রণ করা দুরূহ হয়ে পড়ে। ৩. মানবিক সীমাবদ্ধতা: হাজার হাজার শিক্ষকের মধ্যে গুটিকয়েক দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তি থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। এই সামান্য অংশের অসততার দায় পুরো সিস্টেমকে বহন করতে হয়।
বর্তমান পদ্ধতিতে ১০০% স্বচ্ছ পরীক্ষা নেওয়া অসম্ভব।
কারণ:
যদি আমরা সত্যিকার অর্থেই শতভাগ স্বচ্ছ ও প্রশ্নফাঁসমুক্ত পরীক্ষা চাই, তবে কেবল সদিচ্ছাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন প্রযুক্তির কঠোর প্রয়োগ।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের ছবি যে বাইরে এসেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে এটি প্রশাসনের ব্যর্থতার চেয়ে বেশি আমাদের সিস্টেমের দুর্বলতা এবং কিছু ব্যক্তির নৈতিক অবক্ষয়ের ফল। প্রশ্নটি পরীক্ষা শুরুর আগে ফাঁস হয়নি, বরং পরীক্ষা চলাকালীন অসদুপায়ে বাইরে পাঠানো হয়েছে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের জালিয়াতি বা "ডিজিটাল প্রশ্নফাঁস" রোধ করতে হলে সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তন আবশ্যিক। প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জ্যামার নিশ্চিত করা ছাড়া হাজার চেষ্টা করেও এই বিশাল নিয়োগ পরীক্ষায় ১০০% স্বচ্ছতা আনা সম্ভব হবে না। এখনই সময় পরীক্ষা পদ্ধতিকে আধুনিকায়নের পথে নিয়ে যাওয়ার।