প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। গত ২ জানুয়ারি দেশজুড়ে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণবশত তা পিছিয়ে আগামী ৯ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। পরীক্ষার তারিখ পেছানো হলেও প্রশ্নপত্র ফিরে আসেনি ঢাকায়; বরং এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তা অবস্থান করছে জেলা পর্যায়ের ট্রেজারিতে। দীর্ঘ সময় প্রশ্নপত্র জেলা পর্যায়ে থাকায় এর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়েছে চরম আতঙ্ক ও গুজব।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র মতে, ২ জানুয়ারি পরীক্ষার সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত ছিল। বিধি মোতাবেক পরীক্ষার কয়েক দিন আগেই কঠোর নিরাপত্তায় প্রশ্নপত্র প্রতিটি জেলার ট্রেজারিতে পৌঁছে দেওয়া হয়। কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু ও দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
পরীক্ষা পেছানো হলেও লজিস্টিক জটিলতা এড়াতে প্রশ্নপত্র ঢাকায় ফেরত আনা হয়নি। ফলে প্রায় ৮-৯ দিন ধরে এসব প্রশ্নপত্র জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র দীর্ঘ সময় মাঠ পর্যায়ে থাকার সুযোগে অসাধু চক্র তা ফাঁস করার চেষ্টা করতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রশ্নফাঁসের নানা গুঞ্জন ডালপালা মেলতে শুরু করেছে, যা মেধাবী প্রার্থীদের হতাশায় নিমজ্জিত করছে।
প্রশ্নপত্র দীর্ঘ সময় জেলায় থাকা এবং ফাঁসের ঝুঁকির বিষয়টি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক এ কে মোহম্মদ সামছুল আহসান।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, "২ জানুয়ারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো প্রশ্নপত্রগুলো বর্তমানে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) ট্রেজারিতে সংরক্ষিত আছে। ট্রেজারির নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর এবং সেখানে প্রশ্নপত্র সিলগালা করা অবস্থায় রাখা হয়েছে। সেখান থেকে প্রশ্ন বের করা বা ফাঁস হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।"
তিনি আরও জানান, একটি চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। পরীক্ষার্থীদের এসব গুজবে কান না দিয়ে ৯ জানুয়ারির পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সরেজমিনে এবং অনলাইনে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরীক্ষা পেছানোর পর থেকেই ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে ‘প্রশ্ন আউট হয়েছে’ বা ‘প্রশ্ন পাওয়া যাচ্ছে’—এমন স্ট্যাটাস ও কমেন্টের ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থী বলেন, "প্রশ্নপত্র যখন এক সপ্তাহ ধরে জেলায় পড়ে থাকে, তখন আমাদের মতো সাধারণ প্রার্থীদের মনে সন্দেহ জাগাটাই স্বাভাবিক। অতীতেও আমরা দেখেছি ট্রেজারি বা কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন বের হওয়ার নজির আছে। তাই আমরা শঙ্কামুক্ত হতে পারছি না।"
আগামী ৯ জানুয়ারি, মঙ্গলবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই পরীক্ষায় অংশ নেবেন প্রায় ১০ লাখ ৮০ হাজার পরীক্ষার্থী। একদিকে প্রশ্নফাঁস চক্রের সক্রিয় হওয়ার খবর, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় ধরে প্রশ্নপত্র জেলায় থাকার বিষয়টি—সব মিলিয়ে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে দিন গুনছেন দেশের বৃহত্তম এই নিয়োগ পরীক্ষার প্রার্থীরা। এখন দেখার বিষয়, অধিদপ্তর তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে এই পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারে কি না।