১১-২০ গ্রেডের চাকরিতে ৫০ মার্কের ভাইভা: নিয়োগ বাণিজ্যের নতুন ফাঁদ?

১১ থেকে ২০ গ্রেডের চাকরির পরীক্ষায় লিখিত অংশে ৫০ এবং ভাইভাতে ৫০ মার্ক নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়ে সাধারণ চাকরিপ্রত্যাশীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। দেশে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মনে হচ্ছে, কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি এবং দুর্নীতিবাজ আমলা ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলার চেষ্টা করছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো দুর্নীতির এমন কিছু ফাঁদ তৈরি করা, যেন তারা নির্বিঘ্নে নিজেদের পকেট ভারী করতে পারে। এই দুর্নীতিবাজরা হয়তো ভুলে গেছে, জনগণ এই সরকারকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য, গুটিকয়েক সুযোগসন্ধানী নেতা বা আমলার আখের গোছানোর জন্য নয়।

দুর্নীতির ধারাবাহিক অপচেষ্টা

  • এর আগে আমরা দেখেছি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ফের ম্যানেজিং কমিটির হাতে তুলে দেওয়ার পাঁয়তারা করতে।
  • আর এবার চেষ্টা চলছে ৫০ মার্কের বিশাল ভাইভার আড়ালে প্রকাশ্যে 'নিয়োগ বাণিজ্য' করার।

অযৌক্তিক সাফাই: দুর্নীতির নতুন ব্লু-প্রিন্ট

এই বিষয়ে উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমানের মতো ব্যক্তিদের মন্তব্য শুনলে সত্যিই অবাক হতে হয়। তিনি এমনভাবে কথা বলেন যেন কেবল তিনিই সব বোঝেন! তিনি সাফাই গাইলেন, "ভাইভা কি পরীক্ষা নয়?" অবশ্যই ভাইভা পরীক্ষা। কিন্তু তিনি এর পক্ষে আরও ভয়ংকর একটি যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুরটি ছিল— কোনো প্রার্থী হয়তো লিখিত পরীক্ষায় কম নম্বর পেয়েছে, কিন্তু ভাইভাতে তার উপস্থিত বুদ্ধি, কাজ করার মানসিকতা (aptitude) এবং অন্যান্য দক্ষতা ভালো দেখা গেলে, তাকে টেনে তোলার জন্যই ভাইভাতে বেশি নম্বর রাখা হয়েছে!

এই কথার মাধ্যমে তিনি আসলে কী বোঝাতে চাইলেন? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এমন যুক্তির সোজা অর্থ হলো— যারা টাকা দিয়ে ভাইভা বোর্ডে যাবে বা যাদের মামা-চাচার জোর আছে, তাদেরকেই 'উপস্থিত বুদ্ধি ভালো' বা 'অ্যাপটিটিউড চমৎকার' বলে ভাইভায় বেশি মার্ক দিয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হবে। আর যে মেধাবী ছেলেটি দিনরাত কষ্ট করে পড়ে লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর তুলবে, তাকে ভাইভায় ইচ্ছে করে নম্বর কম দিয়ে বাদ দেওয়ার একটি সহজ আইনি রাস্তা তৈরি হবে। এটি স্পষ্টতই নিয়োগ বাণিজ্যের এবং মেধা হত্যার একটি নিরাপদ আইনি ফাঁদ। ড. জাহেদের এই উদাহরণের মধ্যেই দুর্নীতির একটি বিষাক্ত বীজ বপন হয়ে গেছে। সরকারি চাকরি কারও বাপ-দাদার সম্পত্তি নয় যে 'উপস্থিত বুদ্ধি'র অজুহাতে চাইলেই অযোগ্য কাউকে দিয়ে দেওয়া যাবে!

ভাইভায় কারচুপির বাস্তব আশঙ্কা

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ভাইভা পরীক্ষাতেই অনেক সময় পরিচিত শিক্ষার্থীদের বেশি মার্ক দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেখানে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ভাইভাতে ৫০ মার্ক থাকলে কী ভয়াবহ নিয়োগ বাণিজ্য হতে পারে, তা বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই—একটি বাচ্চাও তা বোঝে। আমলারা যখন টাকার বিনিময়ে ভাইভাতে বেশি মার্ক দিয়ে অযোগ্যদের নিয়োগ দেবে, তখন সরকার এই দুর্নীতি কীভাবে ঠেকাবে? এই নীতিনির্ধারকদের মাথায় কি এই সামান্য বোধটুকুও নেই?

সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা

এই মাথামোটা নীতিনির্ধারকদের বোঝা উচিত, দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা করা ঠিক নয়। জনগণ ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছে মানে এই নয় যে, আপনাদের যা মন চায় তা-ই করবেন। জনগণের ম্যান্ডেট দেওয়া হয়েছে দেশের ভালো করার জন্য। যদি এই দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় দেওয়া হয়, তবে আওয়ামী লীগের মতো পরিণতি হতে খুব বেশিদিন সময় লাগবে না। সত্যিই অবাক লাগে, পূর্ববর্তী সরকারের পতন থেকেও কি এরা কোনো শিক্ষা নেয়নি?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার কাছে সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে আকুল আবেদন—দলের এবং সরকারের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা এই সব দুর্নীতিবাজ এবং অযোগ্য নীতিনির্ধারকদের দ্রুত সরিয়ে দিন। তা না হলে এরাই দুর্নীতির ফাঁদ পেতে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করে বিএনপির ১২টা বাজিয়ে ছাড়বে।

নিয়োগ বাণিজ্যের নতুন ফাঁদ?

চাকরির আপডেট পেতে ইনস্টল করুন