সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে যোগদানের আগে আরও একটি পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ইতোমধ্যে এর জন্য একটি নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি তৈরি করছে। এই মূল্যায়ন ও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই মিলবে কাঙ্ক্ষিত যোগদানের সুযোগ।
প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন মডিউল তৈরির কাজ প্রায় শেষ নেপ সূত্র জানিয়েছে, নবনির্বাচিত শিক্ষকদের জন্য একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন মডিউল তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই এটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ সভার মাধ্যমে এই মডিউল চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেপের এক কর্মকর্তা জানান, মূল্যায়নটি মূলত দুটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে, পিটিআইতে প্রশিক্ষণ চলাকালীন কর্তৃপক্ষ তাদের মূল্যায়ন করবে। দ্বিতীয় ধাপে, প্রশিক্ষণের শেষে নেপ-এর তৈরি করা একটি প্রশ্নপত্রের আলোকে প্রার্থীদের পরীক্ষা দিতে হবে। এই দুই ধাপের সার্বিক ফলাফলের রিপোর্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং তার ভিত্তিতেই মন্ত্রণালয় যোগদানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের বক্তব্য সার্বিক বিষয়ে নেপ-এর মহাপরিচালক ফরিদ আহ্মদ বলেন, "প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরীক্ষা পদ্ধতিসহ যাবতীয় বিষয় নিয়ে একটি মডিউল তৈরি করা হয়েছে। এই মডিউল মন্ত্রণালয়ে সভার পর চূড়ান্ত হবে। মডিউল চূড়ান্ত হওয়ার আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।"
অন্যদিকে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ আশ্বাস দিয়ে বলেন, "প্রাথমিকের ১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষকদের যোগদানের বিষয়টি নিয়ে নেপকে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব প্রশিক্ষণ শেষ করে সহকারী শিক্ষকদের যোগদানের ব্যবস্থা করা হবে।"
পেছনের কথা ও বর্তমান পরিস্থিতি গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১টি জেলায় (পার্বত্য তিন জেলা বাদে) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। পরবর্তীতে ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করে জেলাভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করা হয়।
তবে, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে যোগদান করতে না পারায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন এই প্রার্থীরা। বাধ্য হয়ে গত এপ্রিলের শেষ দিকে রাজধানীতে আন্দোলনে নামেন তারা। অবশেষে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন স্পষ্ট জানান যে, নতুন প্রণীত এই প্রশিক্ষণ শেষ করার পরই তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে।