দীর্ঘ দুই মাসের উৎকণ্ঠা ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জট খুলতে শুরু করেছে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর পুলিশ ভেরিফিকেশন কার্যক্রম ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে শুরু হয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় গতি আসায় চাকরিপ্রার্থীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় গতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনার পর দেশের ৬১টি জেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলো নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ে পাঠিয়েছে। লালমনিরহাট, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলার শিক্ষা অফিসারদের দেওয়া তথ্যমতে, পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যে তাদের কাজ শুরু করেছে। অতীত অভিজ্ঞতা ও বর্তমান কাজের গতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই এই পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হবে।
শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস ও নিয়োগের শর্ত প্রার্থীদের সকল সংশয় দূর করে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার প্রার্থীর কাউকেই বাদ দেওয়া হবে না; অতি শিগগিরই তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে এই নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু অবশ্য পালনীয় শর্তের কথা তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। যোগদানের পর সকল শিক্ষককে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে (পিটিআই) প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হবে এবং সেখানে উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া, সরকারি বিধি অনুযায়ী দুই বছর সাফল্যের সঙ্গে চাকরি করার পরই তাদের পদ স্থায়ী করা হবে।
অবসান হলো দীর্ঘ উৎকণ্ঠার গত ৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর নিয়োগপ্রক্রিয়া থমকে থাকায় প্রার্থীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফলাফল ‘রিভিউ’ হওয়ার গুজবে তাদের উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে যায়। অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে প্রার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করেন এবং জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন। তাদের এই যৌক্তিক আন্দোলনের মুখেই সরকারের পক্ষ থেকে নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত করার আশ্বাস দেওয়া হয়।
মে মাসেই নিয়োগের প্রত্যাশা উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। এরপর গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চের মধ্যে এসব প্রার্থীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা (ডোপ টেস্টসহ) এবং সনদ যাচাইয়ের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এখন চূড়ান্ত ধাপের পুলিশ ভেরিফিকেশন শুরু হওয়ায় প্রার্থীরা বেশ আশাবাদী যে, চলতি মে মাসেই তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত নিয়োগপত্র হাতে পাবেন।