প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘হিসাব সহকারী’ নিয়োগ পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে স্থগিত হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়েও একই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ১৪ হাজারেরও বেশি পদে শিক্ষক নিয়োগের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একাধিক প্রতারক ও প্রশ্নফাঁস চক্র।
আগামী ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় চরম ক্ষোভ ও হতাশায় ভুগছেন লাখো চাকরিপ্রার্থী।
চাকরিপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। প্রার্থীদের ধারণা:
রংপুর বিভাগের এক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, "সাধারণত বিজ্ঞপ্তি ও আবেদনের পর এত দ্রুত পরীক্ষা হয় না। এবার ব্যতিক্রমী তোড়জোড় ও আগের পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা সবার মনে সন্দেহ বাড়িয়ে দিয়েছে।"
চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ ও অনুসন্ধানে প্রশ্নফাঁস চক্রের অভিনব প্রতারণার তথ্য উঠে এসেছে। ফেসবুকের বিভিন্ন 'সিক্রেট গ্রুপ' ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে প্রার্থীদের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে।
প্রতারক চক্রের অফার ও চুক্তি প্রক্রিয়া:
১. টাকার অঙ্ক: প্রশ্ন ও উত্তরের বিনিময়ে ৩ লাখ টাকার চুক্তি।
২. অগ্রিম: শুরুতে ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম প্রদান করে 'স্পেশাল গ্রুপে' যুক্ত হতে হয়।
৩. সেফ হাউজ: পরীক্ষার আগের দিন মোবাইল ফোন জমা রেখে চক্রের নির্ধারিত বাসায় (সেফ হাউজ) অবস্থান করতে হবে। সেখানেই প্রশ্ন ও উত্তর মুখস্থ করানো হবে।
৪. পরীক্ষা কেন্দ্র: চক্রের সদস্যরাই প্রার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছে দেবেন।
৫. জামানত ও বাকি টাকা: প্রবেশপত্র জমা রাখতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় পাস করার পর বাকি আড়াই লাখ টাকা দিয়ে প্রবেশপত্র ফেরত নিতে হবে। তবে মৌখিক পরীক্ষার কোনো দায়ভার চক্র নেবে না।
এক ভুক্তভোগী প্রার্থীর জবানবন্দি:"আমাকে মেসেঞ্জারে কল দিয়ে অফার করা হয়। ৩ লাখ টাকার চুক্তিতে ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম দিলে তারা পরীক্ষার আগের দিন সব ব্যবস্থা করে দেবে। শতভাগ প্রশ্ন কমনের নিশ্চয়তাও দিচ্ছে তারা।"
গত ২ জানুয়ারি পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণবশত তা পিছিয়ে ৯ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে জেলা পর্যায়ে প্রশ্নপত্র থাকায় ফাঁসের গুজব আরও ডালপালা মেলেছে।
তবে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক এ কে মোহম্মদ সামছুল আহসান। তিনি বলেন:
তিনি পরীক্ষার্থীদের গুজবে কান না দিয়ে মেধা ও যোগ্যতার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান।