সম্প্রতি খবর বেরিয়েছে, বেসরকারি স্কুল-কলেজে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ফের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতেই তুলে দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এনটিআরসিএ (NTRCA) এখন থেকে কেবল সনদ দেবে, নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে না—এবং এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে!

এই খবরটি শোনার পর সাধারণ চাকরিপ্রত্যাশী ও সচেতন মহলের মনে একটাই প্রশ্ন জাগছে—শিক্ষামন্ত্রী কি পাগল হয়ে গেছেন? ওনাদের আচরণ ও ভাবখানা এমন যেন, উনারা যা চাইবেন তাই হবে! মনে হচ্ছে শিক্ষামন্ত্রী এখনও ২০০৫ সালের ধ্যানধারণাতেই আটকে আছেন। সদ্য সমাপ্ত 'জুলাই'-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দেখেও কি ওনাদের কোনো শিক্ষা হয়নি?

নিয়োগ বাণিজ্যের মহোৎসব ও লাখ লাখ টাকার ডিল

ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগ ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো সরাসরি নিয়োগ বাণিজ্যের দুয়ার খুলে দেওয়া। আমরা সবাই জানি, কমিটির হাতে ক্ষমতা থাকলে নিয়োগের নামে লাখ লাখ টাকার ডিল হবে। টাকার বিনিময়ে অযোগ্যরা শিক্ষক হবে আর প্রকৃত মেধাবীরা রাস্তায় ঘুরবে। শিক্ষামন্ত্রী তখন এই লাগামহীন দুর্নীতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?

এনটিআরসিএ-এর বাস্তবতা ও সহজ সমাধান

২০০৫ সালে বিএনপি সরকারের শাসন আমলে প্রতিষ্ঠিত এনটিআরসিএ দীর্ঘ সময় পেরিয়ে বর্তমানে বেশ গোছালোভাবে কাজ করছে। অতীতে কিছু ভুল সিদ্ধান্ত থাকলেও বর্তমানে এতে তেমন কোনো জটিলতা নেই। একমাত্র সমস্যাটি হলো শিক্ষকদের নিজ এলাকা থেকে দূরের প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়া।

এটি সমাধান করতে হলে মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়া বাতিল করার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং শূন্যপদের বিপরীতে নিজ জেলা বা বিভাগের বাইরে আবেদনের সুযোগ বন্ধ করে দিলেই সমস্যার যৌক্তিক অবসান ঘটে।শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা আনতে বছরে দুবার শূন্যপদের তালিকা সংগ্রহ করে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি, আইন প্রণয়ন করে এনটিআরসিএ-কে আরও বেশি ক্ষমতা দিলেই তো হয়! তা না করে সম্পূর্ণ একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া বাতিল করার মতো এমন ‘আজাইরা’ ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় কীভাবে নিলো, তা সত্যিই বোধগম্য নয়।

মন্ত্রণালয়ের প্রতি বিনীত প্রশ্ন

যাঁরা এই মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়া বাতিলের অদ্ভুত চিন্তা করছেন, তাঁদের উচিত নিজেদের মেধা ও জ্ঞানকে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে লাগানো। আপনারা এই উল্টাপাল্টা সিদ্ধান্ত না নিয়ে বরং ভাবুন:

  • কীভাবে দেশের শিক্ষার মান আরও বৃদ্ধি করা যায়?
  • কীভাবে বেকার সমস্যার কার্যকর সমাধান করা যায়?
  • কীভাবে চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রোধ করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়?

পরিশেষ

বিএনপি সরকার বা কোনো বিবেকবান প্রশাসন এতটা পাগল বা অবিবেচক হতে পারে না যে, একটি সুন্দর ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে দেশে নতুন করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে। শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি বিনীত অনুরোধ, দ্রুত এই ধরনের আজাইরা ও হটকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুন। তা না হলে সারা দেশে চাকরিপ্রত্যাশী ও সাধারণ ছাত্রসমাজের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও চরম সমস্যা তৈরি হবে। ম্যানেজিং কমিটির পকেটে টাকা ভরার সেই অন্ধকার ও কলঙ্কজনক যুগে আমরা আর ফিরে যেতে চাই না।

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ ফের ম্যানেজিং কমিটির হাতে: একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ও চরম অশনিসংকেত

চাকরির আপডেট পেতে ইনস্টল করুন