বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি) শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এক বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন এনেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। ২০২৫ সালের সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, এখন থেকে আর দীর্ঘমেয়াদি 'গণবিজ্ঞপ্তি' বা ধাপে ধাপে আবেদনের প্রয়োজন হবে না। এর বদলে সরাসরি নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমেই শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক পদায়ন করা হবে।
এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও হতাশার অবসান হতে চলেছে।
নতুন ও পুরোনো নিয়োগ পদ্ধতির তুলনামূলক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
নতুন নিয়মে পরীক্ষাটি মোট ২২০ নম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।
এনটিআরসিএ-এর সচিব এ এম এম রিজওয়ানুল হক সম্প্রতি প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পরিবর্তনের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, আগের নিয়মে যারা নিবন্ধন সনদ পেতেন, তাঁদের সবাই চূড়ান্ত নিয়োগ পেতেন না। এতে সনদধারী বেকারদের মধ্যে তীব্র বঞ্চনা ও হতাশার সৃষ্টি হতো।
নতুন পদ্ধতিতে যেহেতু সরাসরি পদের বিপরীতে পরীক্ষা হবে, তাই যারা উত্তীর্ণ হবেন তারা সরাসরি চাকরিতে যোগ দিতে পারবেন। এর ফলে নিয়োগপ্রক্রিয়া যেমন দ্রুততর হবে, তেমনি প্রশাসনিক জটিলতাও বহুলংশে কমে আসবে।
সরাসরি নিয়োগের প্রথম ধাপ হিসেবে এনটিআরসিএ ইতিমধ্যে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শূন্য পদের তালিকা সংগ্রহ করেছে। এবার মোট ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্য পদের বিপরীতে মেগা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
কোন পদে কতজন নিয়োগ পাবেন, তার বিস্তারিত তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | পদের নাম | শূন্য পদের সংখ্যা |
| ১ | সহকারী শিক্ষক | ৪৪,৬৯১ |
| ২ | সহকারী মৌলভি | ১১,০৬৯ |
| ৩ | ইবতেদায়ি মৌলভি | ৬,১৬৬ |
| ৪ | প্রভাষক | ৫,৮৫২ |
| ৫ | সহকারী শিক্ষক/শরীরচর্চা প্রশিক্ষক | ৪,০১৪ |
| ৬ | ইবতেদায়ি কারি | ২,৫৬৩ |
| ৭ | ব্যবহারিক নির্দেশক | ১,৬১৬ |
| ৮ | সহকারী শিক্ষক (ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা) | ৯২৮ |
| ৯ | ইবতেদায়ি শিক্ষক | ৪৪৪ |
| ১০ | বাণিজ্য প্রশিক্ষক | ২৫১ |
| ১১ | কম্পিউটার ব্যবহারিক নির্দেশক | ১২৯ |
| ১২ | শারীরিক শিক্ষা প্রশিক্ষক | ১২৫ |
| ১৩ | প্রশিক্ষক | ৫১ |
| মোট | সর্বমোট শূন্য পদ | ৭৭,৭৯৯ |
(সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে সাধারণ সহকারী শিক্ষক পদে, যার সংখ্যা ৪৪,৬৯১টি।)
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে ২০০৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন সনদ দেওয়া শুরু করে। পরবর্তীতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ২০১৫ সাল থেকে সনদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের সুপারিশ করার দায়িত্বও নেয় প্রতিষ্ঠানটি।
এখন পর্যন্ত মোট ৭টি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে এনটিআরসিএ, যার মাধ্যমে সারা দেশে ১ লাখ ৮৬ হাজার ২৩৮ জন শিক্ষককে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের এই নতুন নীতিমালা এনটিআরসিএ-এর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের শিক্ষা খাতে একটি ইতিবাচক মাইলফলক হয়ে থাকবে।