ইউরোপের অন্যতম স্বপ্নের দেশ ইতালি তাদের নাগরিকত্ব আইনে (Italian Citizenship Law Reform) বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৬ সালের নতুন বাজেট ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হতে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়া এখন আগের চেয়ে অনেক দ্রুত এবং স্বচ্ছ হবে।
১. ডিজিটাল যুগে ইতালির নাগরিকত্ব আবেদন
ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ডাটাবেজের আওতায় আনা হয়েছে। আগে যেখানে একটি ফাইলের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হতো, এখন সেটি হবে মুহূর্তের ব্যাপার।
-
অটোমেটেড ভেরিফিকেশন: আবেদন জমা দেওয়ার সাথে সাথেই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার তথ্য যাচাই শুরু করবে।
-
এআই (AI) প্রযুক্তির ব্যবহার: ১০ বছরের রেসিডেন্সি বা থাকার ইতিহাস যাচাই করতে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হবে, যা মানুষের ভুল বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করবে।
২. ফি মওকুফ ও শিশুদের জন্য বিশেষ সুবিধা
নতুন আইনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো প্রবাসী শিশুদের জন্য সুযোগ বৃদ্ধি।
-
ফি মওকুফ: ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শিশুদের নাগরিকত্ব ঘোষণার ক্ষেত্রে ২৫০ ইউরো ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে।
-
সময়সীমা বৃদ্ধি: বিদেশে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্বের ঘোষণা দেওয়ার সময় ১ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩ বছর করা হয়েছে।
৩. স্মার্টফোনেই দেখা যাবে আবেদনের স্ট্যাটাস
ইতালি সরকারের ‘ইতালিয়া ডিজিটাল ২০২৬’ প্রকল্পের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি আপনার হাতের মুঠোয় চলে আসছে।
-
SPID/CIE সুবিধা: আবেদনকারীরা তাদের ডিজিটাল আইডি (SPID বা CIE) ব্যবহার করে স্মার্টফোন থেকেই আবেদনের বর্তমান অবস্থা ট্র্যাক করতে পারবেন।
-
জুন ২০২৬ এর লক্ষ্যমাত্রা: আগামী জুন মাসের মধ্যে এই সিস্টেমটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৪. তথ্য: ইতালির নাগরিকত্ব আবেদনের সাধারণ শর্তাবলী
(পাঠকদের জন্য বাড়তি তথ্য হিসেবে এই অংশটি যোগ করা হলো, যা আর্টিকেলের ভ্যালু বাড়াবে)
ইতালিতে স্থায়ী হতে চাইলে বা নাগরিকত্ব পেতে চাইলে সাধারণত নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হয়:
-
টানা ১০ বছর বসবাস: নন-ইইউ (Non-EU) নাগরিকদের জন্য সাধারণত ১০ বছর বৈধভাবে বসবাস বাধ্যতামূলক।
-
ভাষা দক্ষতা: ইতালিয়ান ভাষার ওপর B1 Level দক্ষতা থাকতে হয়।
-
আর্থিক সচ্ছলতা: আবেদনকারীর নির্দিষ্ট বার্ষিক আয় বা ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন (CUD) থাকতে হয়।
৫. অভিবাসী ও বিশ্লেষকদের মতামত
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতালি সরকার এখন দক্ষ জনবলকে দেশটিতে স্থায়ী করতে আগ্রহী। সিজনাল ভিসা বা স্পন্সর ভিসায় আসা বাংলাদেশিরা যারা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন, তাদের জন্য এই ডিজিটাল সংস্কার একটি বিশাল মাইলফলক।
ইতালির ওয়ার্ক ভিসা বা স্পন্সর ভিসা আবেদন পদ্ধতি ২০২৬
Italy Work Visa from Bangladesh 2026 জন্য বাংলাদেশিরা মূলত ‘ডিক্রেটো ফ্লুসি’ (Decreto Flussi) বা কোটা পদ্ধতির মাধ্যমে ইতালির ওয়ার্ক ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। ২০২৬ সালের জন্য ইতালি সরকার প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি শ্রমিকের কোটা নির্ধারণ করেছে।
১. আবেদনের প্রধান ধাপসমূহ (Step-by-Step Process)
ইতালির ওয়ার্ক ভিসা সরাসরি কোনো ব্যক্তি আবেদন করতে পারেন না; এর জন্য ইতালি থেকে একজন নিয়োগকর্তা বা মালিকের প্রয়োজন হয়।
-
ধাপ ১: নিয়োগকর্তা খোঁজা: প্রথমে ইতালিতে এমন একজন মালিক বা কোম্পানি খুঁজে বের করতে হবে যারা আপনাকে কাজ দিতে আগ্রহী।
-
ধাপ ২: নাল্লা ওস্তা (Nulla Osta) সংগ্রহ: আপনার নিয়োগকর্তা ইতালির স্থানীয় প্রিফেকতুরা (Prefettura) অফিসে আপনার পাসপোর্ট কপি ও তথ্যাদি জমা দিয়ে ‘নাল্লা ওস্তা’ বা কাজের অনুমতির জন্য আবেদন করবেন। এটি মূলত অনলাইন পোর্টালে ‘ক্লিক ডে’-র মাধ্যমে জমা দিতে হয়।
-
ধাপ ৩: ডিজিটাল ভেরিফিকেশন: ২০২৬ সালের নতুন নিয়মে, নিয়োগকর্তার আর্থিক সামর্থ্য এবং আপনার তথ্যগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হবে।
-
ধাপ ৪: ভিএফএস গ্লোবাল (VFS Global) এ আবেদন: নাল্লা ওস্তা ইস্যু হওয়ার পর, সেটি নিয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত ইতালিয়ান দূতাবাসে (ভিএফএস গ্লোবাল-এর মাধ্যমে) ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
২. ২০২৬ সালের গুরুত্বপূর্ণ ‘ক্লিক ডে’ (Click Day) তারিখসমূহ
ইতালি সরকার ২০২৬ সালের বিভিন্ন খাতের জন্য আবেদনের সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করেছে:
-
১২ জানুয়ারি ২০২৬: কৃষি খাতের জন্য।
-
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: পর্যটন, হোটেল এবং রেস্টুরেন্ট খাতের জন্য।
-
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: নন-সিজনাল সেক্টর (নির্মাণ, মাল্টিমিডিয়া ইত্যাদি)।
-
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ফ্যামিলি কেয়ার বা ডোমেস্টিক ওয়ার্কারদের জন্য।
৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (Checklist)
-
একটি বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট (ন্যূনতম ২ বছরের মেয়াদ থাকা ভালো)।
-
ইতালি থেকে ইস্যুকৃত অরিজিনাল Nulla Osta (নাল্লা ওস্তা)।
-
চাকরির চুক্তিপত্র (Work Contract)।
-
আবেদনকারীর বর্তমান ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড)।
-
পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং ভিএফএস গ্লোবালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট কপি।
-
ভিসা ফি (প্রায় ১৯,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা, যা পরিবর্তনশীল)।